১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শুরু হলো একুশে বইমেলা ২০২৬ ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

অনিশ্চয়তার দীর্ঘ দোলাচল কাটিয়ে মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ প্রান্তে শুরু হলো অমর একুশের বইমেলা। নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর বিকেলে সর্বসাধারণের জন্য মেলার দ্বার খুলে দেওয়া হয়। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

বাংলা একাডেমি আয়োজিত এই বইমেলা সাধারণত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে মাসজুড়ে চলে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যেই শুরু হয় পবিত্র রমজান মাস। রমজানে মেলা আয়োজন লাভজনক হবে না—এমন আশঙ্কায় প্রকাশকদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং প্রধান কয়েকজন প্রকাশক মেলা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির সঙ্গে আলোচনার পর স্টল বরাদ্দের অর্থ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হলে প্রকাশকেরা অংশগ্রহণে সম্মত হন। এভাবেই নানা টানাপোড়েন শেষে শুরু হলো ১৮ দিনের এবারের বইমেলা, যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।

রমজান মাস বিবেচনায় নিয়ে মেলার সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির দিনে বেলা ১১টায় মেলা শুরু হবে। বেলা ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর, এরপর রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম শিশুপ্রহর।

এবার মেলায় অংশ নিয়েছে ৫৪৯টি প্রতিষ্ঠান, যেখানে গতবার ছিল ৭০৮টি। একাডেমি প্রাঙ্গণে সরকারি-বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার ৮১টি স্টল রয়েছে। সৃজনশীল বইয়ের ৪৬৮টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে।

মেলার প্রথম দিনে বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, অল্প কয়েকটি স্টলে বই সাজানো হয়েছে, বেশির ভাগ স্টলে তখনও নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ চলছিল। সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে প্রকাশকেরা আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারেননি। মেলার কিছু অংশে বিদ্যুৎ–সংযোগও দেওয়া হয়নি। উত্তর প্রান্তে একটি প্রকাশনীর স্টলে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্ধকারেই নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

তবে কয়েকটি স্টলে প্রথম দিন থেকেই নতুন বই সাজিয়ে পাঠকদের স্বাগত জানানো হয়। দর্শনার্থীরা জানান, নির্মাণকাজ চললেও প্রথম দিনের পরিবেশ ছিল নিরিবিলি ও স্বতন্ত্র। কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে প্রতিদিনই নতুন বই মেলায় আনা হবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি নতুন বই বিক্রিও শুরু হয়েছে।

বই মেলায় পাঠকের ভিড়
ছবি :ইন্টারনেট থেকে নেওয়া