জেনেভা বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র বলেন, ইইএস বাস্তবায়ন সুইস কাস্টমস ও বিমানবন্দরের জন্য একটি ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মী সংখ্যা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইউরোপের অন্য স্থানগুলো থেকেও একই ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ বিমানবন্দরেও যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
টেনেরিফ বিমানবন্দরে গাড়ি ভাড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অ্যান্ড্রু নাইট বলেন, তার অধিকাংশ গ্রাহক যুক্তরাজ্য থেকে আসেন। শীতের রোদে ছুটি কাটাতে আসা অনেক পর্যটক বর্ডার কিওস্কে দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়ছেন।
যারা কম ভিড়ের সময়ে এসেছেন, তারা তুলনামূলক দ্রুত পাসপোর্ট কন্ট্রোল পার হতে পেরেছেন। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক বিমান অবতরণ করলে লাইন দ্রুত দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো যাত্রী ২০ মিনিটে পার হতে পারলেও, অন্যদের দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় সিস্টেম কাজ না করা বা ‘ডাউন’ থাকার কারণেও ভোগান্তি বাড়ছে।
এই ডিজিটাল এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম চালু হলে পাসপোর্টে কালি দিয়ে সিল দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতির অবসান ঘটবে। শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের সময় প্রথমবার নন-ইইউ নাগরিকদের পাসপোর্ট স্ক্যানের পাশাপাশি আঙুলের ছাপ ও ছবি নিবন্ধন করতে হবে। এই নিবন্ধন তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ইউরোপের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা সাধারণত স্বয়ংক্রিয় কিওস্ক বা মেশিনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী ভ্রমণে প্রবেশের সময় এই তথ্য যাচাই করা হবে।
অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ইইএস চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে অর্ধেক সীমান্ত পয়েন্টে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ অ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাত্রী এটি ব্যবহার করছেন।
ট্রাভেল এজেন্ট নেটওয়ার্ক অ্যাডভান্টেজ পার্টনারশিপের জুলিয়া লো বুয়ে-সাইড বলেন, ‘নিঃসন্দেহে, নতুন এই ব্যবস্থা এমন জায়গায় আরও বেশি বাধা ও জটিলতা তৈরি করেছে, যেখানে আগে থেকেই সমস্যা ছিল।’
সীমান্ত প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে
৬০০টির বেশি বিমানবন্দরের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এয়ারপোর্ট কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল ইউরোপের মহাপরিচালক অলিভিয়ের জাঙ্কোভেচ বিবিসিকে বলেন, ইইএস চালুর ফলে বর্ডার কন্ট্রোলে যাত্রী প্রক্রিয়াকরণের সময় ‘চার থেকে পাঁচ গুণ’ বেড়ে গেছে। অনেক যাত্রীকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, পর্যাপ্ত সীমান্ত কর্মীর অভাব এবং কিছু মেশিন অচল থাকাও এই সমস্যার বড় কারণ। ইস্টার ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক নিবন্ধন করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ইউরোপীয় কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট বলেন, ইইএস-এর আওতায় ইতোমধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ প্রবেশ ও প্রস্থান নিবন্ধিত হয়েছে এবং ১২ হাজার প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তার দাবি, সিস্টেমটি ‘বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই’ চলছে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো আরও উন্নতির জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে প্রতিটি সীমান্ত পয়েন্টে এবং সব যোগ্য যাত্রীর জন্য ইইএস ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ার কথা। তবে প্রয়োজনে দেশগুলো গ্রীষ্মকালজুড়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত রাখতে পারবে।
অলিভিয়ের জাঙ্কোভেচ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে। তা না হলে এবং যন্ত্রপাতি ও সীমান্তরক্ষীর সংখ্যা না বাড়ালে অপেক্ষার সময় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।
তার সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্ডার কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় জরুরি, যাতে প্রয়োজনে ‘যথাসময়ে’ সিস্টেম স্থগিত করা যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন এবিটিএ জানায়, সীমান্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনের তুলনায় কম মাত্রায় তল্লাশি কমানোর ক্ষমতা ব্যবহার করছে, ফলে যাত্রীরা দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়ছেন। সংস্থাটি বলেছে, আপদকালীন ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমের জন্য আগাম পরিকল্পনা জরুরি।
জুলিয়া লো বুয়ে-সাইড ফেব্রুয়ারির ছুটি ও পরবর্তী সময়ের ভ্রমণকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে পিক টাইমে ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত’ থাকার কথা বলে তিনি বলেন, ‘সঙ্গে অবশ্যই কিছু খাবার ও পানীয় রাখুন এবং ছোট শিশুদের ব্যস্ত রাখার মতো কিছু সঙ্গে নিন।’