১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ষণ ঢাকতে তরুণীকে হত্যা: বিএনপি নেতাসহ ৫ জন আটক

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মাধবদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের বিচার দাবি করায় কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে পুনরায় ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সরিষা ক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও মাধবদী কোতয়ালীরচর এলাকার নাজির দেওয়ানের ছেলে আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), প্রধান অভিযুক্ত নূরার চাচাতো ভাই একই এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০) এবং হোসেন বাজার এলাকার মৃত মজিবুরের ছেলে গাফফার (৩৪)।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় নূরার নেতৃত্বে ৫–৬ জনের একটি দল মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিচার চেয়ে পরিবারটি মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। সেখানে অভিযুক্তরা আর্থিক সমঝোতার চেষ্টা করে এবং রাজি না হওয়ায় পরিবারটিকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এরপর বুধবার রাতে আশরাফ হোসেন কাজ শেষে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে গেলে বড়ইতলা এলাকায় নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে বাধা দেয় এবং জোর করে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারটি বাড়ি ফিরে যায়।