২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে নিহত ৩৮, চরম শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী তুষারঝড়ে খন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।  অন্তত ১৪টি অঙ্গরাজ্যে টানা তুষারপাত, বরফে ঢাকা সড়ক ও হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি জানান, গত আট বছরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বেশি ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবাইকে বাইরে পাওয়া গেলেও তারা গৃহহীন ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত নয় প্রশাসন।

শুক্রবার শুরু হওয়া এই শীতকালীন ঝড় সপ্তাহান্তে ব্যাপক তুষারপাতে রূপ নেয়। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়, বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশজুড়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন ছিল।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন শহরে জরুরি সেবা দল মোতায়েন করা হয়েছে, বিশেষ করে গৃহহীনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিউইয়র্ক সিটির বাধ্যতামূলক গৃহহীন গণনা ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ৪০০ গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে ন্যাশভিল রেসকিউ মিশনে শৈত্যপ্রবাহে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭ হাজারে পৌঁছেছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, তুষারঝড়জনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হাইপোথার্মিয়া, অতিরিক্ত ঠান্ডাজনিত হৃদরোগ এবং বরফ পরিষ্কার করতে গিয়ে দুর্ঘটনা। টেক্সাস, কেনটাকি, মিশিগানসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে এসব মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে আরও একটি তুষারঝড় আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে অন্তত ২০ কোটি মানুষ শীতকালীন সতর্কতার আওতায় রয়েছেন, যা ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে।