যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, তেহরানের উত্তরাঞ্চলের সাইয়্যেদ খানদান এলাকাতেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশসহ দেশের আরও কয়েকটি স্থানে হামলার খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি নির্মূল করতেই এই যৌথ হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং এর লক্ষ্য হলো আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা।
রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসরায়েলে ইরানের পাল্টা হামলা
ইসরায়েল হামলা চালানোর পরপরই উত্তর ইসরায়েলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি দূর করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।”
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অঞ্চলটিতে বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান ও রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সকে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হামলা আকাশ ও সমুদ্র—দুই দিক থেকেই চালানো হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তেহরানে যে এলাকাগুলোতে হামলা হয়েছে তার একটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি। তবে রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই; তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি মাজিয়ার মোতামেদি জানিয়েছেন, রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে কোনো কল করা যাচ্ছে না।
এদিকে ইসরায়েলে সাইরেন বেজে ওঠে এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। দেশটির সামরিক বাহিনী জনগণকে সতর্ক করে জানায়, ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে। ইসরায়েল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং জনগণকে বিমানবন্দরে না যেতে অনুরোধ করেছে।
কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও একই পরামর্শ দিয়েছে। ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হামলার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে চলছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলাকালীন কয়েক সপ্তাহ আগেই হামলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইরান বিষয়ক বিশ্লেষক মেহরান কামরাভা বলেন, ইসরায়েল এমন একটি হামলা চালিয়েছে যা চলমান আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারে।
