২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ

চিফ প্রসিকিউটর অপসারণ, জুলাইয়ের বিচার নিয়ে জনমনে তীব্র শঙ্কা ও অসন্তোষ

চিফ প্রসিকিউটর অপসারণ, জুলাইয়ের বিচার নিয়ে জনমনে তীব্র শঙ্কা ও অসন্তোষ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র শঙ্কা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৫ বছরের গুম-খুনের বিচার প্রক্রিয়া নতুন নেতৃত্বের অধীনে আগের মতো এগোবে কিনা—সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সদ্যবিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যদিও এই পরিবর্তনকে ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন; তবু নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা লক্ষ করা গেছে এ নিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসানো অস্বাভাবিক নয়। তবে বিদায়বেলায় তিনি নিজের অনুভূতিকে ‘অম্লমধুর’ বলে অভিহিত করেন।

দেড় বছরের দায়িত্বকালকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় ট্রাইব্যুনালের অবস্থা ছিল বিশৃঙ্খল; ভবন পরিত্যক্ত, নথিপত্র এলোমেলো। সেখান থেকে তদন্ত কার্যক্রম পুনর্গঠন, হাসপাতাল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং গুমের মামলার অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

নতুন চিফ প্রসিকিউটরের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তাজুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে তাঁর অপসারণকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে—বিশেষ করে চলমান মামলাগুলোর ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

মামলায় ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণত শীর্ষ কমান্ডার ও সরাসরি জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হয়। নিজের আমলে দেওয়া রায় ও উপস্থাপিত প্রমাণের মান নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

বিদায়বার্তায় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাজুল ইসলাম আশা করেন, ভবিষ্যতে দেশে আর কখনও গুম, হত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হবে না। তবে তাঁর অপসারণের ঘটনায় জুলাইয়ের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে যে শঙ্কা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।