১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভাতের হোটেল নিয়ে হাসনাতের আবেগঘন স্ট্যাটাস ভাইরাল

দেবিদ্বার এলাকার একটি ছোট ভাতের হোটেল এবং সেই হোটেলের মালিক ‘খালা’কে নিয়ে দেওয়া হাসনাতের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্ট্যাটাসে হাসনাত জানান, ২০২৫ সালের শুরুতে দেবিদ্বারে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করলে তাঁর খাবারের কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি রাতে প্রথমবার ‘খালা’র হোটেলে যান। তিনি লেখেন, “‘হোটেল’ নাম হলেও আসলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক দিনের স্মৃতি বয়ে বেড়ানো এক জীর্ণ চৌচালা ঘর।”

প্রথম দিনেই খালার আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ হন। সেদিন টমেটো দেওয়া মসুর ডাল ও ডিমভাজি খেয়ে তিনি তৃপ্তি পান। তাঁর ভাষায়, “যা খেলাম কিন্তু তৃপ্তিটা ছিল ভরপুর।” এরপর থেকে জায়গাটি তাঁর নিয়মিত খাওয়ার ঠিকানা হয়ে ওঠে।

মাঝে মাঝে নিজেরা মাংস নিয়ে গিয়ে খালাকে দিয়ে রান্না করাতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খালার রান্নার বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখেন, “তার চোখে তখন একাগ্রতা, যেন এই রান্নাটাই তার সবকিছু, রান্নাটাই যেন তার ইবাদত।” এছাড়া আলু ভর্তার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এত সাধারণ জিনিস এত মজার হতে পারে! এটাকেই বলে হাতের যশ।”

নির্বাচনের সময়ের একটি ঘটনার কথাও তিনি স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন। সবাই যখন আর্থিক সহায়তা দিচ্ছিল, তখন তিনি খালাকে জিজ্ঞেস করেন—তিনি কী দিতে পারবেন। খালা তখন কিছু বলেননি। পরে গিয়ে দেখেন, “খালা তার হোটেলটাই আমার নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে বুথ হিসেবে দিয়ে দিয়েছেন।”

নির্বাচনে জয়ের পর হাসনাত আবার সেই হোটেলে গেলে খালা আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে তাকে খাবার পরিবেশন করেন। তার আচরণে কোনো পরিবর্তন ছিল না। তিনি লেখেন, “তার চোখে আমার কোনো নতুন পরিচয় নেই, আমি এখনও সেই আগের মানুষ।”

স্ট্যাটাসের শেষে খালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “এই নিঃশব্দ স্বীকৃতিই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।