১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে ‘সমঝোতার আইন’ আখ্যা দিলেন আখতার হোসেন

জুলাই সনদ ও গণভোটে জনরায় বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের টালবাহানার প্রতিবাদে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসী প্রতিবাদ সভা।

গতকাল ১০ মার্চ ২০২৬ রোরবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশ নেন।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার, কমিটির সদস্য ইশতিয়াক আকিব, জাতীয় নারীশক্তির আহবায়ক মনিরা শারমিন।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে আনুপাতিকভাবে প্রবাসীরা বেশি ভোট দিয়েছেন। আমার আসনে আমি স্থানীয় অনেক সেন্টারে পরাজিত হলেও পোস্টাল ব্যালটে বিপুল হারে জয়ী হয়েছি। এমনকি এগারো দলীয় প্রার্থীরা যারা জয়ী হয়েছেন তারা প্রায় সবাই প্রবাসীদের ভোটে জয়ী হয়েছেন।

জুলাই সনদ বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদের প্রতিটি পয়েন্ট খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। এই খুঁটিয়ে দেখার পেছনে তাদের অসততাও ছিল বলে আমরা মনে করি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই আদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা বলা হলেও, বাস্তবায়ন না করার কারণে শাস্তিমূলক কোনো বিধান রাখা হয়নি; তাই সরকার সেই আদেশ মানছে না।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে এমন একটি বিধান থাকা দরকার ছিল যে, কোনো সংসদ সদস্য একাধারে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ না করলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল বলে গণ্য হবে।

তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের আইনটাকে হার্ড এন্ড ফার্স্ট বা বাধ্যবাধকতামূলক আইন হিসেবে দেখা হয়নি, এটাকে দেখা হয়েছে সমঝোতার আইন হিসেবে। তবে এটাকে সবাই দেখেছে কমিটমেন্টের জায়গা থেকে।

তিনি এই আদেশকে পবিত্র ওয়াদা আখ্যা দিয়ে বলেন, এই পবিত্র ওয়াদাকে আইনের ভাষায় বিবৃত করা হয়েছে—যার বিপরীতে কোনো শাস্তির বিধান রাখা হয়নি।

সভায় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, আমরা একটি নতুন বাংলাদেশে যাব। যারা শহিদ হয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন; এই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তারা আমাদের দেখিয়েছেন।

সদ্য নির্বাচিত সরকার জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নে বিলম্ব করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদেরকে তারা রাজপথে নামাতে চান, টায়ার্ড করতে চান, হসপিটালে পাঠাতে চান। আমাদের এ ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।

প্রবাসীদের সর্বাত্মকভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, আপনারা শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা না, আপনারা বাংলাদেশের রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যেখানেই যাবে সেখানেই আপনারা তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের ব্যাপারে জনগণের মোহভঙ্গ হতে তিন বছর লেগেছিল, বিএনপির ব্যাপারে শহিদ পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের মোহভঙ্গ হতে এক মাসও লাগেনি। প্রথম দিনই তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, যেভাবে তারা এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, এর প্রতিদানও বিএনপির পেতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে যা যা করণীয় আমরা সেই কাজগুলো করব।

আলোচনায় ফাহিম মাশরুর বিএনপি সরকারের সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি আশংকা করে বলেন, এখানে বিএনপির সাথে সাম্রাজ্যবাদী কোনো শক্তির ইন্ধন থাকতে পারে।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহবায়ক সাইফ ইবনে সারোয়ার, সদস্য সচিব নাজমূল বাশার, এনসিপি ফ্রান্স শাখার আহবায়ক ইফতেশাম চৌধুরী, আমেরিকার যুগ্ম সদস্য সচিব আজওয়াদ হায়দার, মিডিয়া ও ব্র্যান্ডিং লিড উল্লাস জায়েদ এবং জুলাই গনহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষন বিষয়ক কমিটির সদস্য ওমর ঢালী। এছাড়া অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ইতালির আহবায়ক রাসেল মুহাম্মাদ। কারিগরি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সৌদি আরব থেকে আবু সাঈদ।