রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে মরদেহ সাত টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে শাহীন আলম নামে এক হোটেল কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন-অর-রশীদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পর ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে শাহীনের তর্কাতর্কি হয়। ইফতারের পর কয়েকবার বাজারে পাঠানো এবং রাতে উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের একপর্যায়ে শাহীন রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে মরদেহের হাত-পা, মাথা ও কোমরের অংশ বিচ্ছিন্ন করে কালো পলিথিনে ভরে ফেলেন।
রাত ১২টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত তিনি সাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে খণ্ডিত অংশগুলো ফেলে আসেন। নয়াপল্টন, গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, কমলাপুরের ময়লার ডাস্টবিন এবং আমিনবাজারের সালেহপুর ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। কাটা মাথাটি মাতুয়াইলের ভাগাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। বুকের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুরের বাসিন্দা এবং একটি হোমিও ক্লিনিকের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শাহীন হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে কাজ করতেন এবং গত দুই মাস ধরে ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে একই বাসায় থাকছিলেন।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
