দিয়েগো ম্যারাডোনা
আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির আদালত। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। মৃত্যুর কিছুদিন আগেই তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বর্তমানে সাতজন চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলছে আর্জেন্টিনার একটি আদালতে।
শুক্রবার (১ মে) মামলার শুনানিতে ম্যারাডোনার মানসিক ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নতুন তথ্য উঠে আসে। আদালতে তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ জানান, ম্যারাডোনা বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও নার্সিসিজমে ভুগছিলেন।
দিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ম্যারাডোনার চিকিৎসায় ভুল ওষুধ ব্যবহার করেছিলেন। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ম্যারাডোনা দীর্ঘদিন কোকেন ও অ্যালকোহলে আসক্ত ছিলেন এবং তার মানসিক সমস্যাও ছিল।
তিনি আরও বলেন, ফুটবল জাদুকর হিসেবে পরিচিত ম্যারাডোনা যেমন একটি দেশকে গর্বিত করেছিলেন, তেমনি অ্যালকোহলের প্রভাবে তার জীবন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
বাইপোলার ডিজঅর্ডার হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে মানুষের আবেগ ও মেজাজ দ্রুত পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে নার্সিসিজম হলো অতিরিক্ত আত্মমুগ্ধতা ও নিজের প্রতি উচ্চ ধারণা রাখা।
দিয়াজের দাবি অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা প্রায় ২৩ দিন মাদক গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন এবং নিজের জীবনধারা পরিবর্তনের চেষ্টা করছিলেন।