১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভালোবাসার সম্পর্কে অতিরিক্ত সংশয় যে মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে কিছু প্রশ্ন মনের ভেতর বারবার ফিরে আসে। প্রতীকী এআই ছবি

ভালোবাসার সম্পর্কে মান-অভিমান, সঙ্গীর অনুভূতি নিয়ে সাময়িক দ্বিধা কিংবা নিজের আবেগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে এই সংশয় যখন বারবার ফিরে এসে মনের অস্থিরতা বাড়ায় এবং স্বাভাবিক জীবন ও সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সাইকোথেরাপিস্টদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ নিজের অনুভূতি নিয়েই ক্রমাগত সন্দেহে ভুগতে পারেন। ‘আমি কি সত্যিই তাকে ভালোবাসি?’ কিংবা ‘আমি কি ভুল সম্পর্কে আছি?’—এ ধরনের প্রশ্ন বারবার মনে আসতে থাকে। উত্তর পাওয়ার পরও একই সংশয় নতুন করে ফিরে এলে তা নেতিবাচক চিন্তার একটি চক্রে পরিণত হতে পারে।

এই অবস্থায় অনেকে নিজের অনুভূতি যাচাই করতে থাকেন। সঙ্গীর সঙ্গে দেখা হলে আগের মতো ভালো লাগছে কি না, পুরোনো ছবি দেখে ভালোবাসার গভীরতা কতটা, কিংবা অন্য দম্পতিদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা—এসবের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে স্বস্তি পাওয়ার বদলে অনেক সময় সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।

সঙ্গীর স্বাভাবিক আচরণ নিয়েও অতিরিক্ত সতর্কতা দেখা দিতে পারে। সামান্য নীরবতা, বার্তার উত্তর দিতে দেরি কিংবা প্রত্যাশিত প্রশংসা না পেলেই মনে হতে পারে সঙ্গীর ভালোবাসা কমে গেছে। অস্বস্তি দূর করতে কেউ কেউ বারবার সঙ্গীর কাছে নিশ্চয়তা চান বা বন্ধুদের কাছে একই বিষয় নিয়ে মতামত খোঁজেন। সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এ ধরনের সংশয় বাড়াতে পারে। অন্য দম্পতিদের সুখী মুহূর্ত দেখে নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করলে বাস্তব সম্পর্ক নিয়ে অযথা হতাশা বা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে সব সন্দেহকে অমূলক বলা যাবে না। সম্পর্কে প্রতারণা, নিয়মিত মিথ্যাচার, অসম্মান বা দায়িত্বহীনতার মতো বাস্তব সমস্যা থাকলে সেটি যৌক্তিক উদ্বেগের বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিটি সন্দেহ দেখা দিলেই তার তাৎক্ষণিক উত্তর বা নিশ্চয়তা খোঁজার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো চিন্তা মাথায় আসা মানেই সেটি সত্য—এমনটা নয়। অনুভূতি বারবার পরীক্ষা করা, অতিরিক্ত নিশ্চয়তা চাওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলনা করার প্রবণতাও ধীরে ধীরে কমানো জরুরি।

এই সংশয় যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দৈনন্দিন জীবন বা সম্পর্কের স্বাভাবিকতায় উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সুস্থ সম্পর্ক মানে সবসময় শতভাগ নিশ্চিত থাকা নয়; বরং কিছুটা অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে পারস্পরিক আস্থা, যোগাযোগ ও পাশে থাকার মধ্য দিয়েই সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া।