১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইতালিতে বাঁধনকে হেনস্তা: জড়িত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত

ইতালির মেস্ত্রে শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে শিপল মাহমুদ বিপ্লব, ইলিয়াস মিয়া ও আলতাফ পাহাড়ের উপস্থিতি ও ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর মেস্ত্রের একটি পার্কের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন বাঁধন। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা করেন। তার দিকে পানি, কোক ও ডিম ছোড়া হয় এবং তার মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাদের একজন তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ ও ‘দেশদ্রোহী’ বলে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তাকে উদ্দেশ করে পানি ঢেলে দেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায়।

ভিডিওতে আরও শোনা যায়, এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাচ্চা আছে আমার। কী করছেন এগুলো?’ এর পর কয়েকজনের পক্ষ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে চাপ দেওয়ার শব্দ শোনা যায়। অন্য একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা দেশটাকে ধ্বংস করছে।’

ঘটনার একপর্যায়ে একজন দাবি করেন, ‘আমরা ইতালির ছাত্রলীগ।’ বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে গেলেও তাদের ‘প্রতিহত’ করার কথা বলেন তিনি।

ঘটনাটি ফেসবুকে ‘মনিরুল হাওলাদার’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। লাইভটির ক্যাপশনে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ উল্লেখ করে তাকে ‘উত্তম মাধ্যম’ দেওয়ার দাবি করা হয় এবং ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা’ লেখা ছিল।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুরে। তিনি ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান।

বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাঁধনের দিকে বারবার পানি ছুড়ে দিচ্ছেন শিপল মাহমুদ বিপ্লব। তার বাড়ি শরীয়তপুরে। শরীয়তপুরের ছাত্রলীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি সংগঠনটির কর্মী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ভিডিওতে ইলিয়াস মিয়াকে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইলিয়াস হাত তুললে আঘাতটি বাঁধনের হাতে লাগে এবং তার মুঠোফোনটি হাত থেকে পড়ে যায়।