১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া

পিলখানা শহিদদের কবরে চুপ্পুকে নিয়ে তারিক জিয়া

পিলখানা শহিদদের কবরে চুপ্পুকে নিয়ে তারিক জিয়া

আওয়ামীলীগ আমলের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থান-এ পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা সদস্যদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তে চটেছেন নেটিজনরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় নেটিজনরা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন তাদের ফেসবুক পোস্টে। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হোসাইন মাহমুদ তামিম তার ফেসবুক প্রোফাইলে বলেন, মিথ্যা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে যে বিচারপতি নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে পাঠায় সে হলো এই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এই মিথ্যা মামলার প্রধান কলাকৌশলী ছিলো চুপ্পু। ‎ ২০১১-১৬ দুদকের কমিশনার ছিলো চুপ্পু।

ডিকে সুলাইমান বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির দিন শ্যাষ, বার্তা একটাই। এতে চুপ্পু ৭৪ এ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হোক আর দুদকের প্রধান হয়ে লুটপাট করুক অথবা ব্যাংক কমিশনের প্রধান হয়ে ব্যাংক লুটে সহায়তা করুক অথবা বেগম জিয়াকে জেলে পাঠাতে হাসিনার ইশারায় কাজ করুক।

ঢাবি শিক্ষার্থী ও গায়ক সাইফুল্লাহ বলেন, তারেক রহমান হাসিনার দ্বারা সংঘটিত পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছে এই চুপ্পুকে সাথে নিয়ে! পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদরা ধিক্কার জানাচ্ছে।

ফাহমিদা আক্তার বলেন, এরচেয়ে হাস্যকর আর কি হতে পারে? যেই চুপ্পু পিলখানা হত্যাকারীর‌ সহযোগী, সেই চুপ্পু আজ পিলখানা শহীদ মিনারে। নাকি চুপ্পুর সাত খুন মাফ, দেড় বছর সার্ভিসের বিনিময়ে?

এছাড়াও অনেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পুরনো ভিডিও শেয়ার করছেন, যেখানে তিনি তারেক জিয়া, শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। আবার কেউ কেউ তারেক জিয়াকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন চুপ্পুকে সঙ্গে নেয়ায়।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।

গত ২৬ জুন পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। এ ঘটনায় তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের নানা মাত্রায় সংশ্লিষ্টতার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

২০২৪ সাল থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। প্রতি বছর এ দিনে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।