১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নাটোরে দড়ি-বাঁশ বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই ছবি : ইন্টারনেট থেকে পাওয়া

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে মসজিদে যাতায়াতের জন্য পরিচিত এই ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন।

তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সোমবার সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান আব্দুর রহমান মোল্লা। এরপরও তিনি জীবনযুদ্ধে থেমে যাননি। ছয় বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং সেটি মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। পরে তিনি নিজেই ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

তবে অন্ধত্বের কারণে মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিলে তিনি অভিনব উপায় বের করেন। তার নির্দেশনায় বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত দড়ি ও বাঁশ টাঙানো হয়। সেই দড়ি ও বাঁশের সহায়তায় তিনি নিয়মিত মসজিদে যাতায়াত করতেন।

তার ছেলে, স্কুল শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল জানান, শুরুতে পরিবারের সদস্যরা তাকে দড়ি ও বাঁশ ধরে চলাচলে অভ্যস্ত করে তোলেন। পরে একটি লাঠির সাহায্যে তিনি নিজেই পথ চিনে মসজিদে যাতায়াত করতে সক্ষম হন।

তার মৃত্যুতে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দুই চোখে দেখতে না পেলেও শেষ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রসারে আব্দুর রহমান মোল্লার অবদান সত্যিই বিরল এবং অনুকরণীয়।