২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রবাস
"২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদেরকে জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখায়" -মুহাম্মাদ রাসেল,আহ্বায়ক, এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ইতালি

ইতালির রাজধানী রোম-এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ দূতাবাস রোম

ইতালির রাজধানী রোম-এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ দূতাবাস রোম

ইতালির রাজধানী রোম-এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস রোম যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উদযাপন করেছে।

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে দূতাবাসের কনফারেন্স রুমে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ইতালির বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং জাতিসংঘের মহাপরিচালকের বাণী পাঠের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, মাতৃভাষা বাংলার ইতিহাস, তাৎপর্য ও সঠিক ব্যবহার বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব পৌঁছে দিতে দূতাবাসের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ইতালি-এর আহ্বায়ক মুহাম্মাদ রাসেল বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদেরকে জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখায়। এছাড়াও তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের সকল আন্দোলনের উদ্দেশ্য আমাদেরকে বৈষম্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে অনুপ্রাণিত করে।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলা ভাষার ঐতিহ্য ও তাৎপর্য রক্ষা করতে প্রবাসীদের ভূমিকা অপরিহার্য। বিদেশে প্রবাসীরা বাংলাদেশের ভাষা ও ইতিহাস তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করতে সক্ষম। একুশে ফেব্রুয়ারি তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, যা জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব ও মর্যাদা ধরে রাখে।

আলোচনায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার তাৎপর্য, সঠিক ব্যবহার ও গুরুত্ব তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া বক্তারা ১৯৫২, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের দেশের জন্য এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহত সকলের কথা স্মরণ করেন এবং দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।