১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাঁচ বছরে ইউরোপে ২০ লাখ জনশক্তি রপ্তানির পরিকল্পনা ছবি : অনলাইন থেকে পাওয়া

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য। বর্তমানে দেশের মোট প্রবাসী কর্মীর প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই এই অঞ্চলে কর্মরত। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ঘন ঘন যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিকল্প বাজার খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক স্থিতিশীল ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানায়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈধ ও নিরাপদ পথে কর্মী পাঠাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে প্রায় ২০ লাখ কর্মী ইউরোপে পাঠানো সম্ভব।

বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমবাজার অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া ১১ লাখের বেশি কর্মীর মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। এর মধ্যে সৌদি আরবেই গেছেন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিক। দেশের মোট রেমিট্যান্সেরও ৬০ শতাংশের বেশি আসে এই অঞ্চল থেকে, যা নির্ভরতার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি এড়াতে ইউরোপের অন্তত এক ডজন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে সরকার। ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস, রোমানিয়া, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

তবে ইউরোপমুখী অভিবাসন এখনো সীমিত। বর্তমানে ইউরোপে বাংলাদেশি কর্মীর হার ৫ থেকে ৭ শতাংশের নিচে। ভিসা জটিলতা, দক্ষতার ঘাটতি এবং সমন্বয়হীনতার কারণে সম্ভাবনাময় বাজারগুলোতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার অভাব এবং অবৈধভাবে প্রবেশের প্রবণতা বাংলাদেশি কর্মীদের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করতে হলে দক্ষতা উন্নয়নই হবে প্রধান চাবিকাঠি। এ লক্ষ্যে সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ পথে বিদেশ গমন নিরুৎসাহিত করে বৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসনে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপসহ নতুন বাজারে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শ্রমবাজার গড়ে তুলতে চায় সরকার।