১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্ব
ইরানের দাবি, তিনি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন

ইসরায়েলের দাবি, খোমেনি বেঁচে নেই

ইসরায়েলের দাবি, খোমেনি বেঁচে নেই

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দাবি, ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, শনিবার ভোরে চালানো যৌথ হামলার পর “ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত” পাওয়া যাচ্ছে যে খোমেনি আর জীবিত নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক অজ্ঞাতনামা ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, খোমেনির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।

তবে ইরানের তাসনিম ও মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, খোমেনি এখনও “দৃঢ়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন” এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

এ দাবির জবাবে খোমেনির কার্যালয়ের জনসংযোগ প্রধান অভিযোগ করেন, শত্রুরা “মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ” চালাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে তিনি বলেন, “শত্রুপক্ষ মানসিক যুদ্ধের আশ্রয় নিচ্ছে। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, খোমেনির মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষনা আসেনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এনবিসি নিউজকে বলেন, “আমার জানা অনুযায়ী” সর্বোচ্চ নেতা ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সুস্থ আছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, খোমেনির মৃত্যুর খবর তিনি “সঠিক” বলে মনে করেন।

ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শনিবারের হামলায় ইরানের ২৪টি প্রদেশ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এতে অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন।

এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে দাবি করেন, শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানে বহু “জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব” নির্মূল করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সরকারকে উৎখাতের আহ্বান জানান।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরায়েল বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার এবং পারমাণবিক কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।