ছবি : unsplash
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত ও জটিল হচ্ছে, ততই বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ওপর অনিশ্চয়তার দেখা দিচ্ছে। কারণ, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই আসে ওই অঞ্চলের ছয়টি উপসাগরীয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েত থেকে। যদিও যুদ্ধের প্রভাব এখনো সরাসরি প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়নি, তবু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট প্রবাসী আয়ের ৪৫ শতাংশ এসেছিল এই ছয় দেশ থেকে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ শতাংশে। উল্লেখ্য, করোনাকালীন ২০২০-২১ অর্থবছরে এই হার ছিল ৬০ শতাংশ, যা পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে কমেছে।
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট ৮৬৭ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যার মধ্যে ৪৮০ কোটি ডলার বা ৪৭ শতাংশ এসেছে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ১৩১ কোটি ডলার এবং ইউএই থেকে ১১৮ কোটি ডলার। এছাড়া ওমান থেকে ৫১ কোটি, কাতার থেকে ৪২ কোটি, কুয়েত থেকে ৪৪ কোটি এবং বাহরাইন থেকে ২৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
উপসাগরীয় অঞ্চলের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যেখান থেকে এসেছে মোট প্রবাসী আয়ের ১৯.৬১ শতাংশ বা ১৭০ কোটি ডলার। এছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ১৫.৬০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭.৫৯ শতাংশ এবং বাকি প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে।
এই ছয় দেশে প্রবাসী আয়ের বড় উৎস হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সেখানে বিপুলসংখ্যক নতুন শ্রমিকের যাত্রা। গত বছর ১১ লাখ ১৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে শুধুমাত্র সৌদি আরবেই গেছেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার। এছাড়া কাতারে ১ লাখ ৭ হাজার, ইউএইতে ১৩ হাজার এবং কুয়েতে ৪০ হাজার শ্রমিক পাড়ি জমান।
বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, ইউএইতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত আছেন।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
তবে যুদ্ধ চলমান থাকলেও ঈদের আগে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল ইতিবাচক। চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই ২২০ কোটি ডলার দেশে এসেছে, যার মধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহেই এসেছে ১১৩ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশঙ্কা করছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে এই প্রভাব সীমিত থাকবে, তবে দীর্ঘমেয়াদি হলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে।