১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাশিয়া-ইরান জোটে বাড়ছে কৌশলগত শক্তি

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সহায়তা ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সহায়তাকে ‘সীমিত’ বলে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তব বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—মস্কো এমন সব ক্ষেত্রেই তেহরানকে সহায়তা দিচ্ছে, যা সরাসরি যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর সক্ষমতা রাখে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গোয়েন্দা ও স্যাটেলাইট সহায়তা। রাশিয়ার ‘লিয়ানা’ নজরদারি স্যাটেলাইট ব্যবস্থা মূলত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি। এই সিস্টেম থেকে পাওয়া তথ্য ইরানকে শত্রুপক্ষের অবস্থান, চলাচল এবং সম্ভাব্য কৌশল সম্পর্কে আগাম ধারণা দিচ্ছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ছে।

এর পাশাপাশি ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট সক্ষমতাও রাশিয়ার সহায়তায় শক্তিশালী হয়েছে। ‘খৈয়াম’ স্যাটেলাইট, যা রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় উৎক্ষেপণ করা হয়, এখন ভূপৃষ্ঠের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় এক মিটার পর্যন্ত নির্ভুলতায় বস্তু শনাক্ত করার ক্ষমতা ইরানকে নজরদারিতে একটি বড় সুবিধা দিয়েছে।

ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা একটি নতুন মাত্রা তৈরি করেছে। ইরানের শাহেদ ড্রোন, যা আগে থেকেই কম খরচে কার্যকর হামলার জন্য পরিচিত, রাশিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে আরও উন্নত হয়েছে। আধুনিক সংস্করণগুলোতে ক্যামেরা, উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম এবং কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজন করা হয়েছে। এমনকি রাশিয়ার তৈরি ‘কোমেটা-বি’ স্যাটেলাইট নেভিগেশন মডিউল ড্রোনগুলোকে অ্যান্টি-জ্যামিং সক্ষমতা দিচ্ছে, ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাধা অতিক্রম করা সহজ হচ্ছে।

শুধু প্রযুক্তিই নয়, রাশিয়া ইরানকে সামরিক বিশ্লেষণ, ডেটা শেয়ারিং এবং কৌশলগত পরামর্শ দিয়েও সহায়তা করছে। এতে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে আরও সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি সৈন্য না পাঠিয়েও এ ধরনের সহায়তা একটি দেশের যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে, এই সহযোগিতা একমুখী নয়। ইরানও রাশিয়াকে অতীতে ড্রোন, গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সামরিক অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই সহায়তা হয়তো প্রকাশ্যে বড় আকারে দৃশ্যমান নয়, কিন্তু কৌশলগতভাবে এটি অত্যন্ত কার্যকর। গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সমন্বয়ে ইরান এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুত ও সক্ষম অবস্থানে রয়েছে।