১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রবাস

ইতালির পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: বাংলাদেশিসহ অন্তত ৭০ নিখোঁজ, ২ লাশ উদ্ধার

ইতালির পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: বাংলাদেশিসহ অন্তত ৭০ নিখোঁজ, ২ লাশ উদ্ধার ছবি : ইন্টারনেট থেকে পাওয়া

লিবিয়ার উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন বলে ইতালীয় কোস্টগার্ড জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা রোববার জানান, নৌকাটিতে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ জন আরোহী ছিলেন। এটি শুক্রবার গভীর রাতে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, সমুদ্র তখন অত্যন্ত উত্তাল ছিল। কয়েক ফুট উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে নৌকায় পানি ঢুকে পড়ে এবং লিবিয়ার জলসীমার মধ্যেই নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

জার্মান এনজিও সি-ওয়াচ জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণকারী বিমানে উল্টে থাকা নৌকার ওপর অন্তত ১৫ জনকে আটকে থাকতে দেখা গেছে। ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, তারা সাহায্যের জন্য হাত বাড়াচ্ছিলেন, আর আশপাশে ভাসছিল নিথর দেহ।

উদ্ধার কার্যক্রমে লিবিয়ার তত্ত্বাবধানে একটি ইতালীয় মালবাহী জাহাজ ও একটি লাইবেরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ অংশ নেয়। জীবিতদের ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নেওয়া হয়েছে, যা উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত।

এ ঘটনায় ইতালির কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ফিলিপ্পো উঙ্গারো এই যাত্রাকে ‘আত্মঘাতী’ বলে উল্লেখ করে বলেন, জরাজীর্ণ নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আইওএমের ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন ‘মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস’ ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এই ধরনের দুর্ঘটনা নীতিগত ব্যর্থতার ফল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরেই কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে ল্যাম্পেদুসা থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি নৌকা থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন ছিলেন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস