ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় বাবরি মাসজিদ-এর মতো কোনো কাঠামো তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জলপাইগুড়িতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তীব্র সমালোচনা করেন। শাহ বলেন, “আমরা বাংলায় কাউকে বাবরি মসজিদের মতো কিছু নির্মাণ করতে দেব না।”
তিনি অভিযোগ করেন, নবগঠিত আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের ইঙ্গিতেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় একটি মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দেন, যা ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
শাহ দাবি করেন, এই প্রকল্পের পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে। মালদহের গাজোল ও মানিকচকের সভায় তিনি আরও বলেন, “এটি ভারত—এখানে কেউ বাবরি মসজিদ তৈরি করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাইপোকে বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন সফল হবে না।”
তিনি জানান, বিজেপি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেবে না। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে প্রায় ৮ একর ব্যক্তিগত জমিতে ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে।
এদিকে বিজেপির এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যনারজির কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন বিজেপির “হুমকি ও ভয়ভীতি”-র জবাব গণতান্ত্রিক ও দৃঢ়ভাবে দেওয়া হয়।

বাবরি মসজিদ
তৃণমূল এই মন্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে দাবি করেছে। বিশেষ করে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে প্রস্তাবিত মসজিদ প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের আগে এই ইস্যু ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। নির্বাচনের ঠিক আগে ধর্মীয় সংবেদনশীল ইস্যুতে এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।