ছবি : ইন্টারনেট থেকে পাওয়া
হরমুজ প্রণালীর জটিলতা এড়াতে সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করছে বাংলাদেশ। লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এই তেল সরাসরি চট্টগ্রামের রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকারটি আগামী ২০ এপ্রিল লোড হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর জটিলতায় আটকা রয়েছে। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, এই জাহাজটি সেই তালিকায় নেই।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানিয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে নতুন চালানের তেল লোড করা হবে। পাশাপাশি আটকে থাকা জাহাজসহ মোট ২ লাখ মেট্রিক টন তেল মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। পরে এসব তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারে সরবরাহ করা হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, এই ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে প্রায় ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন উৎপাদন সম্ভব হবে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজটির জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললে জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারবে।
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এড়াতে এবার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। ইয়ানবু বন্দর হরমুজ প্রণালীর বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
এদিকে বিএসসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি ও এলএনজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে অন্তত ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হচ্ছে।