ফাইল ছবি
দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে স্বস্তির খবর এসেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার খবরে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০.৫৯ ডলার বা প্রায় ১০.৭ শতাংশ কমে ৮৮.৮০ ডলারে নেমে এসেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের West Texas Intermediate (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১০.৮০ ডলার বা ১১.৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। CNN-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন শেয়ারবাজারের S&P 500 সূচক ৩০ মার্চের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এতদিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে প্রণালিটি চালু রাখার ঘোষণার ফলে সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।
জ্বালানি তেলের দাম কমায় বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। এতে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।