১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাজার
তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ, শিগগিরই নতুন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

ছবি : ইন্টারনেট থেকে পাওয়া

 অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে বর্তমানে তেলের কোনো সংকট নেই। শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন । তবে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সরকার ভাবছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এ বিষয়ে শিগগিরই নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কোরিয়ান ইপিজেড এলাকায় ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের মিলনায়তনে আয়োজিত চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) একাডেমিক এক্সিলেন্স স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো শিল্পখাতের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সমন্বয় গড়ে তুলতে পারেনি, যা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, ফলে শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণার ক্ষেত্র উভয়ই সমৃদ্ধ হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে সাধারণ শিক্ষার প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁকের কারণে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। ম্যাট্রিক থেকে শুরু করে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও বেকারত্ব রয়েছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এই যুগে যে দেশ প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে, তারাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমে প্রযুক্তিভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং নতুন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট অনুষদ চালু করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক তেল পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ জ্বালানি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয় এবং এ সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন এবং জানান, সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পুঁজিবাজার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিভিত্তিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রয়েছে, যা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এবং ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন ও কোরিয়ান ইপিজেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সিইও কিহাক সুং শিক্ষার্থীদের হাতে স্কলারশিপ সনদ তুলে দেন। সিআইইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

উল্লেখ্য, ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন ও সিআইইউ’র মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক স্কলারশিপ হিসেবে ১ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রকৌশল ও ব্যবসায় অনুষদের মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বাছাই করে স্কলারশিপ প্রদান করা হয়।