১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১০ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশের দাবি নাকচ মিয়ানমারের ছবি : ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

রাখাইন থেকে ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার দাবি নাকচ মিয়ানমারের

রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশের তথ্যকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে মিয়ানমার অভিযোগ করে, রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি, সাগরপথে বিভিন্ন দেশে যাওয়া মানুষ এবং বাংলাদেশের কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন একপেশে ও ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

মিয়ানমারের দাবি, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে আরসা (ARSA) পুলিশ ফাঁড়ি ও ব্যাটালিয়নে সমন্বিত হামলা চালানোর পর দেশটির সেনাবাহিনী ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান পরিচালনা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ‘বাঙালি’ বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলার আগে উত্তর রাখাইনের বুথিডং, মংডু ও রাথেডং এলাকায় ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি ‘বাঙালি’ বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে ২ লাখের বেশি ওই এলাকায় থেকে যান এবং ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশে চলে যান। এই হিসাবের ভিত্তিতে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসেছে—এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।

প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যাচাই করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনের সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।

দেশটি আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা সবাই যে মিয়ানমার থেকে এসেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। একই সঙ্গে ‘বোট পিপল’সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।

বিবৃতিতে ১৯৭৮, ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালের ঘটনাগুলোর কথাও উল্লেখ করা হয়। মিয়ানমারের দাবি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ১৯৭৮-৭৯ সময়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৮ জন এবং ১৯৯২-২০০৫ সময়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিকে তারা গ্রহণ করেছিল।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার আন্তরিকভাবে কাজ করছে দাবি করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যাচাই করা ব্যক্তিদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে সাবেক বাসিন্দাদের গ্রহণের কথাও জানিয়েছে মিয়ানমার।

এদিকে প্রত্যাবাসনকে শুধু দুই দেশের মধ্যকার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে দেশটি।