চট্টগ্রামে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির দিকে যাচ্ছে। জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে জেলার ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টি বন্ধ থাকায় নগরজুড়ে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং এর প্রভাব পড়েছে পানি সরবরাহেও।
চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১,২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, যেখানে সরবরাহ ছিল ১,২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। ফলে শুরুতেই প্রায় ৯১ মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দেয়। সন্ধ্যায় উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও এর বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে লোডশেডিং অব্যাহত থাকে।
জ্বালানি সংকটের কারণে রাউজান ১ ও ২ ইউনিট (মোট ৪২০ মেগাওয়াট), জুলধা ২ ও ৩ (২০০ মেগাওয়াট)সহ বেশ কয়েকটি বড় কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দিনে আংশিক চালু থাকলেও সন্ধ্যায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র ২টি সচল আছে। এছাড়া এনলিমা, জুডিয়াক ও কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্টও উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (৬১২ মেগাওয়াট) এবং শিকলবাহা কেন্দ্র (২১৮ মেগাওয়াট)।
নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও বাকলিয়াসহ প্রায় সব এলাকাতেই ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এতে ওয়াসা পর্যাপ্ত পানি তুলতে না পারায় অনেক এলাকায় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই গরমে বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। কল্পলোক এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে, আর পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
পিডিবির চট্টগ্রাম স্কাডা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা ১,৩০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।